দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে বাংলাদেশের স্মৃতিগুলো দুঃসহ। পাঁচ বছর আগের সফরে ২৭৮ রান করেও ১০ উইকেটে হেরেছিল মাশরাফির দল। সেই সব গল্প বদলের সংকল্প নিয়ে যাওয়া সফরে প্রথম ওয়ানডে ম্যাচে শুরুতে ব্যাট করে ৭ উইকেটে ৩১৪ রান তুলেছে বাংলাদেশ। জিততে হলে স্বাগতিকদের করতে হবে ৩১৫ রান।
দেখেশুনে দারুণ এক সূচনা দিলেন তামিম ইকবাল আর লিটন দাস। পরে সাকিব আল হাসান আর ইয়াসির আলি রাব্বি ঝড়ো জুটিতে দলকে গড়ে দিলেন বড় সংগ্রহের ভিত।
সেঞ্চুরিয়ানের সুপার স্পোর্টস পার্কে এই ম্যাচে টসভাগ্য সহায় ছিল না টাইগারদের। টস জিতে বাংলাদেশকে ব্যাটিং করার আমন্ত্রণ জানান দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক টেম্বা বাভুমা।
লুঙ্গি এনগিদির করা প্রথম ওভারে কোনো ঝুঁকি নেননি তামিম ইকবাল। ফলে ওই ওভারে কোনো রানও করতে পারেনি বাংলাদেশ। পরের ওভারে ২ রান নেন লিটন দাস। ফলে প্রথম ২ ওভারে মাত্র ২ রান তুলতে পারে সফরকারীরা।
তবে এনগিদির করা ইনিংসের তৃতীয় ওভারে ছক্কা দিয়েই রানের খাতা খুলেন তামিম। আপার কাটে বল বাউন্ডারির ওপারে আছড়ে ফেলেন বাংলাদেশ দলপতি।
বিরূপ কন্ডিশনে চোখ ধাঁধানো ব্যাটিংই করেছেন বাংলাদেশের দুই ওপেনার। দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে খেলা উপমহাদেশের যেকোনো দলের জন্যই বড় চ্যালেঞ্জ। সেই চ্যালেঞ্জের কথা মাথায় রেখেই এগিয়েছেন তামিম আর লিটন।
দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ
সেট হওয়ার পর হঠাৎ মারমুখী চেহারায় হাজির লিটন। তার নিজস্ব ঢংয়ের ব্যাটিংয়ে ইনিংসের ১৯তম ওভারে প্রোটিয়া স্পিনার কেশভ মহারাজকে টানা তিন বলে ছক্কা আর দুটি বাউন্ডারি হাঁকিয়েছেন লিটন।
জুটিটা সেঞ্চুরির দিকে এগোচ্ছিল। এমন সময়ে হঠাৎ আন্দেলো ফেহলুখায়োর একটি ডেলিভারি ক্রস করতে গিয়ে লাইন মিস করে বসেন তামিম। বল প্যাডে আঘাত হানলে আঙুল তুলে দেন আম্পায়ার।
তামিম অবশ্য রিভিউ নিয়েছিলেন। কিন্তু কাজের কাজ হয়নি। ৬৭ বলে ৩ চার আর ১ ছক্কায় তামিমের ৪১ রানের ইনিংসটি থেমেছে এলবিডব্লিউয়ে। ৯৫ রানে ভাঙে ওপেনিং জুটি।
জয়ের স্বপ্ন নিয়ে দ. আফ্রিকায় মাঠে নামছে বাংলাদেশ
তবে তার আগে দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে বাংলাদেশের যে কোনো উইকেটে জুটির রেকর্ড গড়ে ফেলেন তামিম আর লিটন। তার আগে সেরা জুটিটি ছিল ২০১৭ সালে মুশফিকুর রহিম আর ইমরুল কায়েসের তৃতীয় উইকেটে ৯৩ রানের।
তামিম ফেরার পরই হাফসেঞ্চুরি তুলে নেন লিটন, ৬৬ বলে। তবে ৫০ ছোঁয়ার (৫ বাউন্ডারি আর ১ ছক্কায়) পরের বলেই কেশভ মহারাজের বলে বোল্ড হয়ে যান এই ওপেনার।