ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের একের পর এক প্রভাব পড়ছে ক্রীড়াঙ্গনে। এর উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হচ্ছে ক্লাব চেলসি।
দলটি ইংলিশ হলেও মালিক রোমান আব্রাহামোভিচ রুশ হওয়ায় খুব কঠিন অবস্থায় পড়ে গেছে লন্ডনের ক্লাবটি। একরকম বাধ্য হয়েই প্রিয় ক্লাবটি বিক্রি করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।
গতকাল বুধবার (২ মার্চ) রাতে চেলসির ওয়েবসাইটে দেওয়া বিবৃতিতে আব্রাহামোভিচ জানান, অনেকটা বাধ্য হয়েই এমন পথে হাঁটছেন তিনি। এই সিদ্ধান্ত নিতে তাকে কঠিন মানসিক পরিস্থিতিও পার করতে হয়েছে।
রাজনৈতিক টানাপোড়নের জেরে ইউক্রেনের উপর রাশিয়ার হামলা চালানোর পর একজোট হয়ে যায় পশ্চিমা বিশ্ব। রাশিয়ার উপর আসতে থাকে একের পর এক নিষেধাজ্ঞা। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ঘনিষ্ঠ বলে প্রচার করা হয় আব্রাহামোভিচকে।
যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টে চেলসির এই মালিকের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের দাবি উঠে। এমন পরিস্থিতিতে পুতিনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার গুজব উড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি চেলসি বিক্রির ঘোষণা দেন আব্রাহামোভিচ।
অনেকটা আবেগ ঝরে পড়ে তার কথায়, আমি ক্লাবের ভালোর জন্যই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এই পরিস্থিতিতে তাই ক্লাবকে বিক্রি করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। আমি বিশ্বাস করি এটি ক্লাব, সমর্থক, স্পন্সর, সংশ্লিষ্ট সবার জন্য ভাল হবে।
২০০৩ সালে ১৪ কোটি পাউন্ডে চেলসিকে কিনেছিলেন এই রুশ ধনকুবের। এরপর বিভিন্ন সময় ক্লাবটিকে তিনি দিয়েছিলেন ১৫০ কোটি পাউন্ড। তবে সেই ধার মওকুফ করে দিয়েছেন তিনি।
আব্রাহামোভিচ জানান, চেলসি বিক্রির টাকা তিনি দান করতে চান ইউক্রেন যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায়।
ইউক্রেন সংকট কেবল রাজনৈতিক অঙ্গনেই নয়, দেশটির ক্রীড়াক্ষেত্রেও পড়েছে এর বিরূপ প্রভাব। সেন্ট পিটার্সবুর্গ থেকে চলতি মৌসুমের চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনাল প্যারিসে সরিয়ে নেওয়ার পর গত সোমবার রাশিয়ার সব ক্লাব ও জাতীয় দলকে সব ধরনের প্রতিযোগিতা থেকে নিষিদ্ধ করেছে ফিফা ও উয়েফা।