বিশ্বের সেমিকন্ডাক্টর ও ডিসপ্লে নির্মাতাদের আকৃষ্ট করতে গত সপ্তাহে ১ হাজার কোটি ডলারের প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে ভারত। সরকারের ইতিবাচক এ মনোভাব এবং ভারতের বিশাল বাজারের কথা মাথায় রেখে এখানে কার্যক্রম শুরুতে বেশকিছু প্রতিষ্ঠান আগ্রহ প্রকাশ করেছে। খবর গ্যাজেটস নাউ।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরায়েলের টাওয়ার সেমিকন্ডাক্টর, তাইওয়ানের ফক্সকন ও সিঙ্গাপুরের কনসোর্টিয়াম—এসব প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি ডিসপ্লে উৎপাদন কেন্দ্র স্থাপনে বৈচিত্র্যময় প্রাকৃতিক সম্পদ ভেদান্তাও আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
বিবৃতিতে আরো বলা হয়, প্রকল্পটি সেমিকন্ডাক্টর, ডিসপ্লে উৎপাদনকারীদের পাশাপাশি ডিজাইনার কোম্পানিগুলোকে বিশ্বব্যাপী প্রতিযোগিতামূলক প্রণোদনা প্যাকেজ প্রদানের মাধ্যমে বৈদ্যুতিক ডিভাইস উৎপাদনে একটি নতুন যুগের সূচনা করবে। ২০২৫ সালের মধ্যে জিডিপিতে উৎপাদন খাতের অবদান ২৫ শতাংশে উন্নীত করতে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর মেক ইন ইন্ডিয়া পরিকল্পনার একটি অংশ এটি।
ম্যাকেঞ্জির তথ্যানুযায়ী, ২০২০ অর্থবছরে মোট জিডিপির ১৭ দশমিক ৪ শতাংশ উৎপাদন খাত থেকে এসেছে। অনুমান করা হচ্ছে, ভারতের অর্থনীতির মূল ভিত্তির সঙ্গে যেসব পরিষেবা যুক্ত, সেগুলো দেশের জিডিপিতে ৫০ শতাংশ অবদান রেখেছে। উৎপাদন কার্যক্রম বাড়ালে এটি যে শুধু ভারতের অর্থনীতিকে প্রসারিত করবে তা নয়, এর মাধ্যমে উন্নত কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির পাশাপাশি ভারতের আমদানিনির্ভর অথনীতি এবং উত্থান-পতনের চক্রে পরিবর্তন আনতে সক্ষম হবে বলে ধারণা অর্থনীতিবিদদের। কভিড-১৯ সংক্রমণের সময় বিভিন্ন খাতে কর্মসংস্থান হ্রাসের বিষয়টি বৈচিত্র্য আনয়নের বিষয়টিকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে নির্দেশ করে।
চলতি বছরের জুনে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম চিপ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান গ্লোবাল ফাউন্ড্রিজ এক ঘোষণায় ৪০০ কোটি ডলার বিনিয়োগে সিঙ্গাপুরে নতুন উৎপাদন কেন্দ্র স্থাপনের কথা জানায়। ২০২৩ সাল নাগাদ এ কেন্দ্রে উৎপাদন শুরু হবে বলে জানা গেছে। স্বয়ংচালিত ডিভাইস, ফাইভজি ও শিল্পকারখানায় সুরক্ষিত ডিভাইস সরবরাহে এ কেন্দ্র কাজ করবে। প্রতিষ্ঠানটি এখানে তাদের ৪০ শতাংশ চিপ উৎপাদন করে বলে জানা গেছে।

অনুকূল কর ও নিয়ন্ত্রক পরিবেশ, দক্ষ কর্মী, উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা, আধুনিক সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদন পরিবেশ থাকার কারণে উচ্চমূল্যের উৎপাদনে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগের অন্যতম কেন্দ্র হলো সিঙ্গাপুর। তাইওয়ান, চীন, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান ছাড়াও সিঙ্গাপুরে বিশ্বের বৃহত্তম সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদন কেন্দ্র রয়েছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোয় ভারত ইলেকট্রনিকস উৎপাদন খাতে তাদের সক্ষমতা বাড়িয়েছে। চীনের পর স্মার্টফোন উৎপাদনের দিক থেকে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম দেশ ভারত। অ্যাপলের জন্য চিপ ও অন্য যন্ত্রাংশ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ফক্সকন, উইস্ট্রন ও পেগাট্রনও দেশটিতে কারখানা স্থাপন করেছে।


















