আগামী চার বছরে প্রায় ১১৯ মিলিয়ন সুইস ফ্রাঁ বা ১১০০ কোটি টাকা বাংলাদেশের জন্য বরাদ্দ করেছে সুইজারল্যান্ড। ২০২২-২০২৫ মেয়াদে নেওয়া উন্নয়ন সহযোগিতা কর্মসূচির মাধ্যমে এই অর্থ দেওয়া হবে। সুইস এজেন্সি ফর ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড কোঅপারেশনের (এসডিসি) মাধ্যমে এই অর্থ সহায়তা দেবে দেশটি।
বুধবার (২২ ডিসেম্বর) সুইজারল্যান্ড ও বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তি উদযাপনের প্রাক্কালে ঢাকায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সুইজারল্যান্ড বাংলাদেশের জন্য ২০২২-২০২৫ মেয়াদে নেওয়া উন্নয়ন সহযোগিতা কর্মসূচি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান।
এদিন বাংলাদেশে সফররত সুইস এজেন্সি ফর ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড কোঅপারেশনের মহাপরিচালক মিস প্যাট্রিসিয়া ড্যানজি এই সহযোগিতা কর্মসূচি উপস্থাপন করেন।
এসডিসি মহাপরিচালক প্যাট্রিসিয়া ড্যানজি বলেন, ২০২২-২৫ সালের মধ্যে এ সহযোগিতা কার্যক্রম চালু থাকবে। নতুন সহযোগিতা কর্মসূচি সুইস পররাষ্ট্র নীতির অগ্রাধিকার এবং দেশটির আন্তর্জাতিক সহযোগিতা কৌশল দ্বারা পরিচালিত হয়। এটি এজেন্ডা ২০৩০ সাল পর্যন্ত এবং অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনাসহ বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রাধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। সুইস কো-অপারেশন প্রোগ্রামের সামগ্রিক লক্ষ্য হল বাংলাদেশের টেকসই এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনকে সমর্থন করা, একটি সমৃদ্ধ, ন্যায্য এবং স্থিতিস্থাপক সমাজের প্রচার করা এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে অবদান রাখা। সুইজারল্যান্ড আগামী চার বছরে বাংলাদেশে তার কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য প্রায় ১১০০ কোটি বাংলাদেশি টাকা বিনিয়োগ করবে।
এসডিসি মহাপরিচালক প্যাট্রিসিয়া ড্যানজি বাংলাদেশ অবস্থানকালে ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা, উন্নয়ন সহযোগী, সুবিধাভোগী এবং অন্যান্য মূল স্টেকহোল্ডারদের সাথে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রাধিকার এবং রোহিঙ্গা সংকটসহ বিস্তৃত বিষয়ে আলোচনা করেন। তিনি কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির এবং কক্সবাজার ও গাজীপুর জেলায় সুইজারল্যান্ডের অর্থায়নে বিভিন্ন মানবিক ও উন্নয়ন প্রকল্প পরিদর্শন করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও সুইজারল্যান্ডের বন্ধুত্বের ৫০ বছরের বন্ধন আরও শক্ত হয়েছে। দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হচ্ছে। স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের শুরু থেকেই সুইজারল্যান্ড আমাদের অন্যতম সহযোগী। বাংলাদেশ সরকার দেশের জনগণের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করে করে যাচ্ছে। দরিদ্রদের সীমারেখা থেকে টেনে তুলতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে সরকার। তবে দেশের বৈষম্য যে নেই সেটি বলা যাবে না। কিন্তু সেটি দূর করতে কাজ হচ্ছে। সরকার গ্রামীণ উন্নয়নে ব্যাপক বিনিয়োগ করছে। কেননা গ্রামেই বেশিরভাগ গরিব মানুষের বাস। সারাদেশে বিশুদ্ধ পানি, স্যানিটেশন দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে কমিউনিটি ক্লিনিক কাজ করছে। সেখান থেকে বিভিন্ন ওষুধ বিনামূল্যে দেওয়া হচ্ছে। প্রাথমিক স্বাস্থ্য সেবা পাচ্ছেন গ্রামের মানুষ। বর্তমানে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, দারিদ্র্যনিরসন, নারী ও শিশু উন্নয়ন সংক্রান্ত প্রকল্পগুলোকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, দুর্নীতি যে নেই তা বলব না। কিন্তু দুর্নীতি নিরসনের প্রচেষ্টা আছে। নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জনগণকে সচেতন করা হচ্ছে। আশা করছি পরিবর্তন আসবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) অতিরিক্ত সচিব উত্তম কুমার কর্মকার। এ সময় বাংলাদেশ সফররত এসডিসির মহাপরিচালক প্যাট্রিসিয়া ড্যানজি সহযোগিতা কর্মসূচি উপস্থাপন করেন। বক্তব্য দেন- সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত নাথিল চুয়ার্ড, ডেপুটি হেড অব মিশন সুজানি মুইলার প্রমুখ।