ইসরায়েলসহ বৈরী সম্পর্ক থাকা আরব দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক বাড়াতে চায় তুরস্ক। নভেম্বরে প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েপ এরদোগানের এমন ইঙ্গিতের পর বুধবার তার সাথে সাক্ষাৎ করেন ইহুদি ধর্মীয় গুরু রাব্বিদের একটি প্রতিনিধি দল।
তুরস্কের বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়, গতকাল বুধবার রাজধানী আঙ্কারায় প্রেসিডেন্ট ভবনে তুরস্কের ইহুদি সম্প্রদায়ের সদস্যদের সাথে বৈঠকে বসেন এরদোগান। এসময় তিনি জানান, ইসরায়েল সরকারের প্রতি তুরস্কের সতর্কতা হল মধ্যপ্রাচ্যে যেন দীর্ঘমেয়াদী শান্তি ও স্থিতিশীলতার বিষয়গুলো নিশ্চিত করে ইসরায়েল। তিনি বলেন, তুরস্ক সবসময় চায় মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন ধর্ম, ভাষা ও জাতিগোষ্ঠীর সমাজ যেন শান্তিতে একসাথে বসবাস করে।
দুই দেশের সম্পর্ক নিয়ে এরদোগান বলেন, ফিলিস্তিন নিয়ে মতভেদ থাকা সত্ত্বেও অর্থনীতি, বাণিজ্য ও পর্যটন খাতে ইসরায়েলের সাথে সম্পর্ক তাদের নিজস্ব উপায়ে এগিয়ে যাচ্ছে। শান্তি প্রচেষ্টার প্রেক্ষাপটে ইসরায়েলের আন্তরিক ও গঠনমূলক মনোভাব নিঃসন্দেহে দুদেশের সম্পর্কে অবদান রাখবে। এ অঞ্চলের স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তার জন্য তুরস্ক-ইসরায়েল সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট।
ফিলিস্তিনি ইস্যুতে নেয়া পদক্ষেপগুলো শুধুমাত্র ফিলিস্তিনিদেরই নয়, ইসরায়েলের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতায় অবদান রাখবে বলে জানান এরদোগান। এ বিষয়ে ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজোগ ও প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেতের সাথে নতুন করে সংলাপ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট।
এ সময় তিনি আরো বলেন, তুরস্ক যেমন ইসলামফোবিয়াকে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ হিসাবে দেখে, ঠিক তেমনই ইহুদি বিদ্বেষকেও মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ হিসাবে গণ্য করে তার দেশ। তিনি বলেন, ইসলামোফোবিয়া, ইহুদি বিদ্বেষ ও জেনোফোবিয়ার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সকলের সংহতি থাকা জরুরি। বিশেষ করে পশ্চিমা দেশগুলোর।

গত ২৭ নভেম্বর তুর্কমেনিস্তানে অর্থনৈতিক সহযোগিতা সংস্থার (ইসিও) সম্মেলনে যোগ দেন প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েপ এরদোগান। সেখানে তিনি ইসরায়েলসহ বৈরী সম্পর্ক থাকা আরব দেশগুলোর সাথে সম্পর্ক বাড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছিলেন।


















