ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬, ৫:১০ পূর্বাহ্ন

তুরস্কে উদ্বোধন করা হলো বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য

তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় গতকাল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আবক্ষ ভাস্কর্য ও তার নামে একটি পার্ক উদ্বোধন করা হয়েছে। তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় বঙ্গবন্ধু বুলেভার্ডের চার রাস্তার মোড়ে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একটি আবক্ষ ভাস্কর্য উদ্বোধন করা হয়েছে। গতকাল বাংলাদেশ সময় বেলা ১১টায় এটি উদ্বোধন করা হয়।

এ উপলক্ষে আঙ্কারার বঙ্গবন্ধু বুলেভার্ডে একটি সভার আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আঙ্কারার গভর্নর ওয়াসিপ শাহীন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম, আঙ্কারার ডেপুটি মেয়র সেলিম সিরপান লৌ, আঙ্কারার মেয়র মনসুর ইয়াভাস, তুরস্কে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মাসুদ মান্নান।

অনুষ্ঠানে ডিএনসিসি মেয়র বলেন, ‘আজ আমাদের জন্য একটি গর্বের দিন। তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় আমরা বঙ্গবন্ধুর একটি আবক্ষ ভাস্কর্য স্থাপন করতে পেরেছি। এটি দেশের বাইরে জাতি হিসেবে আমাদের বাংলাদেশের মান উজ্জ্বল করল। ঢাকার বনানী এলাকায় তুরস্কের জাতির জনকের নামে কামাল আতাতুর্ক সরণি রয়েছে। সড়কসংলগ্ন পার্কটিও কামাল আতাতুর্কের নামে নামকরণের সিদ্ধান্ত হয়েছে। আমরা তুরস্ককে আমন্ত্রণ জানিয়েছি। তারা যখন সময় দেবে তখন সেটি উদ্বোধন করা হবে।’

তুরস্ক সফররত ডিএনসিসি মেয়র আরো বলেন, বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ এক ও অভিন্ন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অমর, তার চেতনা অমর। তাই বঙ্গবন্ধুর অবিনাশী চেতনা ও আদর্শ চিরকাল প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে প্রবাহিত হবে। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শুধু নিজ দেশের নেতাই ছিলেন না, তিনি ছিলেন তৃতীয় বিশ্বের গণমানুষের মহান এক নেতা।

এদিকে তুরস্ক সরকার বাংলাদেশী শিক্ষার্থীদের জন্য ১০০টি স্কলারশিপ প্রদানের ঘোষণা দিয়েছে। গতকাল আঙ্কারায় তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত চাভুসুগ্লুর সঙ্গে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেনের বৈঠকে এ ব্যাপারে আশ্বাস পাওয়া গেছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গতকাল এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, সরকারি সফরে তুরস্কে অবস্থানরত পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন এবং তার স্ত্রীর সম্মানে গতকাল তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তার বাসভবনে নৈশভোজের আয়োজন করেন। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তাদের সম্মানে নৈশভোজের আয়োজন, আন্তরিকতাপূর্ণ আতিথেয়তা ও উষ্ণ অভ্যর্থনার জন্য তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে ধন্যবাদ এবং কৃতজ্ঞতা জানান।

এ সময় উভয় দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দ্বিপক্ষীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলোচনা করেন। ড. মোমেন বাংলাদেশী শিক্ষার্থীদের জন্য তুরস্ক সরকারের প্রদত্ত স্কলারশিপের সংখ্যা বৃদ্ধি করে ১০০টি করার জন্য অনুরোধ জানালে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সম্মানে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণে সম্মত হন।

ড. মোমেন তুর্কি প্রজাতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা কামাল আতাতুর্কের নামে ঢাকায় পার্ক উদ্বোধন উপলক্ষে বাংলাদেশ সফরের জন্য তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানালে তিনি সাদরে আমন্ত্রণ গ্রহণ করেন। এছাড়া আগামী বছর তুরস্কের প্রেসিডেন্টের বাংলাদেশ সফরের বিষয়েও উভয় দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বৈঠকে আলোচনা করেন।

বৈঠকে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি তুরস্কের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য বৃদ্ধিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে ড. মোমেনের ভূমিকারও প্রশংসা করেন। উভয় দেশের মধ্যে বাণিজ্য বৃদ্ধির পদক্ষেপগুলো আরো এগিয়ে নিতে একসঙ্গে কাজ করতে উভয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

ড. মোমেন এ সময় বিদেশী বিনিয়োগের আকর্ষণীয় সুযোগের বিষয়গুলো তুলে ধরে বাংলাদেশে তুরস্কের বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানান। তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশে তার দেশের বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং এ বিষয়ে ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দেন।

ড. মোমেন বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে তুরস্ক সরকারের সমর্থন ও সহযোগিতার জন্য তুরস্ক সরকারের প্রতি ধন্যবাদ এবং কৃতজ্ঞতা জানান। এ সময় তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের পক্ষে আগামীতেও তুরস্কের সহযোগিতা ও সমর্থন অব্যাহত রাখার ব্যাপারে আশ্বস্ত করেন।

এ সময় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম, তুরস্কে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মসয়ূদ মান্নান এবং তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

নিউজটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ট্যাগঃ