ঢাকা, সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬, ১২:২৫ পূর্বাহ্ন

অক্টোবরে এলসি খোলায় রেকর্ড

এবার রেকর্ড পরিমাণ খোলা হয়েছে পণ্য আমদানির ঋণপত্র বা এলসি। সর্বশেষ গত অক্টোবর মাসে প্রায় সাড়ে ৭ বিলিয়ন (৭৪২ কোটি ১৬ লাখ) ডলারের এলসি খুলেছেন বাংলাদেশের ব্যবসায়ী-উদ্যোক্তারা। বর্তমান বিনিময় হার হিসাবে (প্রতি ডলার ৮৫ টাকা ৮০ পয়সা) টাকার অঙ্কে এর পরিমাণ ৬৩ হাজার ৬৭৭ কোটি টাকা।

বাংলাদেশের ইতিহাসে এর আগে কখনোই এক মাসে পণ্য আমদানির জন্য এলসি খুলতে এত বিপুল অঙ্কের বিদেশি মুদ্রা খরচ দেখা যায়নি। সব মিলিয়ে চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম চার মাসে (জুলাই-অক্টোবর) ২৭ দশমিক ৩২ বিলিয়ন (২ হাজার ৭৩২ কোটি) ডলারের এলসি খুলেছেন ব্যবসায়ী-উদ্যোক্তারা। টাকার অঙ্কে এর পরিমাণ ২ লাখ ৩৪ হাজার ৪২৫ কোটি টাকা।

গত ২০২০-২১ অর্থবছরের একই সময়ে ১৭ দশমিক ৯৪ বিলিয়ন ডলারের এলসি খোলা হয়েছিল। এ হিসাবে দেখা যাচ্ছে, এই চার মাসে দেশে এলসি খোলার পরিমাণ বেড়েছে ৫২ দশমিক ২৬ শতাংশ।

তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, এই চার মাসে প্রতি মাসে গড়ে ৬ দশমিক ৮৩ বিলিয়ন ডলারের এলসি খোলা হয়েছে দেশে।

আর এলসি খোলার এই হিড়িকে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিদেশি মুদ্রার সঞ্চয়ন বা রিজার্ভেও টান পড়েছে, নেমে এসেছে ৪৫ বিলিয়ন ডলারের নিচে।

অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ী নেতারা বলছেন, ইউরোপ-আমেরিকাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসতে শুরু করায় সেসব দেশের মানুষ আগের মতো পণ্য কেনা শুরু করেছিল। দেশের পরিস্থিতিও স্বাভাবিক হয়ে এসেছিল। সব মিলিয়ে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সব ধরনের পণ্যের চাহিদা ব্যাপক বেড়ে গিয়েছিল।

সে চাহিদার বিষয়টি মাথায় রেখেই বাংলাদেশের ব্যবসায়ী-শিল্পোদ্যোক্তারা নতুন উদ্যমে উৎপাদন কর্মকাণ্ডে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। সে কারণেই শিল্পের কাঁচামাল, মধ্যবর্তী পণ্য, মূলধনি যন্ত্রপাতিসহ (ক্যাপিটাল মেশিনারি) সব ধরনের পণ্য আমদানিই বেড়ে গিয়েছিল, বেড়েছিল এলসি খোলার পরিমাণ।

এ ছাড়া বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেল, খাদ্যপণ্যসহ অন্য সব পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় এলসি খুলতে বেশি অর্থ খরচ হয়েছে বলে জানান তারা।

নিউজটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ট্যাগঃ