সাইবার প্রযুক্তিতে বর্তমান বিশ্বে ইসরায়েল অনেক এগিয়ে। বিশ্বের অত্যাধুনিক সাইবার প্রযুক্তি বেশিরভাগই তৈরি হয় ইসরায়েলে। আর সেগুলো তারা বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করে থাকে। রয়েছে সেসব দেশের সুনির্দিষ্ট তালিকাও। তবে এবার সেই সুনির্দিষ্ট তালিকা থেকে ৬৫ দেশের নাম মুছে ফেললো ইসরায়েল। এসব দেশে আর সাইবার প্রযুক্তি রপ্তানি না করার সিদ্ধান্ত নেয় দেশটি।
ইসরায়েলের পত্রিকা ক্যালকালিস্ট এ–সংক্রান্ত একটি খবর গতকাল বৃহস্পতিবার প্রকাশ করেছে।
নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা দেশগুলোর মধ্যে সৌদি আরবসহ রয়েছে মরক্কো, সংযুক্ত আরব আমিরাত।
প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, গণমাধ্যমের অনুসন্ধানে স্পাইওয়্যার ‘পেগাসাস’ কেলেঙ্কারি ফাঁস হওয়ার পর থেকে এ নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলের চাপের মুখে ছিল ইসরায়েল। এরপর এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো। পেগাসাসের নির্মাতা ইসরায়েলের এনএসও গ্রুপ।
এ নিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, যে সূত্রের মাধ্যমে এই সংবাদ প্রকাশ করেছে, সেটির নাম জানায়নি পত্রিকাটি। ইসরায়েলের কাছ থেকে সাইবার প্রযুক্তি কিনতে পারে, এমন দেশের সংখ্যা ছিল ১০২টি। সেই সংখ্যা কমিয়ে ৩৭–এ এনেছে তারা।
ইসরায়েলি পত্রিকার ওই প্রতিবেদনের পর দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, তারা সঠিক পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে সাইবার প্রযুক্তি কেনার ক্ষেত্রে কোন কোন দেশের নিবন্ধন বাতিল করা হয়েছে, তা নিশ্চিত করেনি তারা।
এই স্পাইওয়্যারের ব্যবহার নিয়ে বিশ্বের ১৭টি গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের অনুসন্ধান গত জুলাইয়ে প্রকাশিত হয়। এতে বলা হয়, বিভিন্ন দেশে সরকারি কর্মকর্তা, রাজনীতিক, সাংবাদিক, মানবাধিকারকর্মীদের ফোনে আড়ি পাততে পেগাসাস স্পাইওয়্যারটি ব্যবহার করা হয়েছিল।
বিশ্বের হাজারো মানবাধিকারকর্মী, সাংবাদিক, রাজনীতিবিদ, সরকারি কর্মকর্তা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের নির্বাহীকে পেগাসাসের নজরদারির সম্ভাব্য তালিকায় পাওয়া যায়। তারপর গোটা বিশ্বে বিতর্কের মুখে পড়ে এনএসও গ্রুপ। পরে এনএসও গ্রুপের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয় যুক্তরাষ্ট্র। প্রতিষ্ঠানটিকে কালো তালিকাভুক্ত করে দেশটি। আর চলতি সপ্তাহে এনএসও গ্রুপের বিরুদ্ধে মামলা করেছে মার্কিন প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান অ্যাপল।