সরবরাহ সংকট সত্ত্বেও স্মার্টফোনের রিয়ার ক্যামেরার ইমেজ সেন্সর উন্নততর হচ্ছে। এমনকি সাশ্রয়ী স্মার্টফোনগুলোয় উচ্চ রেজল্যুশনের প্রাইমারি ক্যামেরা যুক্ত হচ্ছে। কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চের সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
কাউন্টারপয়েন্ট স্মার্টফোন ক্যামেরা ট্র্যাকারের গবেষণায় দেখা গেছে, ২০২১ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে ৪৮ মেগাপিক্সেল কিংবা তার চেয়ে অধিক রেজল্যুশনের স্মার্টফোনের পরিমাণ ছিল মোট স্মার্টফোনের ৪৩ শতাংশ। চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে যে হার ছিল ৩৮ দশমিক ৭ শতাংশ। ৬৪ মেগাপিক্সেলের ফোনের শেয়ার প্রথম প্রান্তিকে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ থাকলেও দ্বিতীয় প্রান্তিকে তা ১৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
উচ্চ রেজল্যুশনের ফোনের দিকে বাজারের এ ঝোঁক নিয়ে জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক ইথান ক্বি বলেন, ২০০ থেকে ৪০০ ডলারের ফোনগুলোতে ৪৮ ও ৬৪ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা থাকা স্বাভাবিক হয়ে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে ফ্ল্যাগশিপ স্মার্টফোনগুলোতে ডিএসএলআরের মতো পারফরম্যান্স দিতে বৃহৎ সেন্সরের দিকে মনোযোগ দেয়া হচ্ছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে ৫০ মেগাপিক্সেলের সেন্সর ব্যবহার করা হচ্ছে। দ্বিতীয় প্রান্তিকে ১০৮ মেগাপিক্সেলের স্মার্টফোন শেয়ার দাঁড়িয়েছে ৩ দশমিক ১ শতাংশ। রেডমি ও রিয়েলমির মতো স্মার্টফোন কোম্পানির হাত ধরে মাঝারি দামের ফোনগুলোতেও ১০৮ মেগাপিক্সেলের রিয়ার ক্যামেরা ব্যবহার হচ্ছে।
অন্যদিকে চাহিদা-জোগানের ভারসাম্যহীনতার কারণে কম রেজল্যুশনের সেন্সরগুলোর দাম বাড়ছে। যেমন চলতি বছরের শুরু থেকে ৫ মেগাপিক্সেলের সেন্সরের দাম ১০ শতাংশ বেড়েছে।
এন্ট্রি লেভেলের (১০০ ডলার দামের) ফোনগুলোও তাদের প্রাইমারি ক্যামেরার রেজল্যুশন ৮ মেগাপিক্সেল থেকে বাড়িয়ে ১২ কিংবা ১৩ মেগাপিক্সেল করছে। গত আগস্টে স্যামসাংয়ের জি সিরিজ এবং সেপ্টেম্বরে অ্যাপলের আইফোন ১৩ সিরিজের ফোন বাজারে আসায় চলতি বছরের দ্বিতীয়ার্ধে ১২ মেগাপিক্সেল সেন্সরের ফোনের লক্ষণীয় প্রবৃদ্ধি দেখা যাবে।
অন্যদিকে ২০ মেগাপিক্সেল কিংবা তার চেয়ে বেশি রেজল্যুশনের ফ্রন্ট ক্যামেরায় দ্বিতীয় প্রান্তিকে বড় কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি। হাই-এন্ড বা দামি ফোনের বিক্রি হ্রাস এতে প্রভাব রেখেছে। তবে দামি ফোনগুলো যে ফ্রন্ট ক্যামেরায় ৩২ মেগাপিক্সেল ও ৪৮ মেগাপিক্সেলের ইমেজ সেন্সর গ্রহণ করবে এ বিষয়টি নিশ্চিত। সাশ্রয়ী ফোনের চাহিদা বৃদ্ধিতে ৮ মেগাপিক্সেল কিংবা তার চেয়ে কম সেন্সরের ফোনের চাহিদা বেড়েছে। দ্বিতীয় প্রান্তিকে যৌথভাবে ৫ ও ৮ মেগাপিক্সেলের ফোনের বাজার শেয়ার ছিল ৪১ দশমিক ৭ শতাংশ।