বিদেশি মুদ্রা ব্যবহারের ওপরে আফগানিস্তানে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে দেশটির ক্ষমতাসীন গোষ্ঠী তালেবান। মঙ্গলবার (২ নভেম্বর) এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে তারা। এর ফলে খাদের কিনারে থাকা আফগান অর্থনীতি আরও সংকটের সম্মুখীন হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বুধবার (৩ নভেম্বর) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা এএফপি।
গত আগস্ট মাসের মাঝামাঝি সময়ে তালেবান আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করার পর বিশ্বের বেশিরভাগ দেশের দূতাবাসের পাশাপাশি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা কাবুলে তাদের কার্যালয় বন্ধ করে দেয়। বন্ধ হয়ে যায় বিদেশি সহায়তাও। এমনকি বিদেশে থাকা আফগানিস্তানের রিজার্ভও আটকে যায়। এই পরিস্থিতিতে আফগানিস্তানের মুদ্রার মান কেবলই কমেছে।
আফগানিস্তানের টালমাটাল এই পরিস্থিতিতে দেশটির ব্যাংকগুলোতে নগদ অর্থের সংকট দেখা দিয়েছে। এছাড়া বিশ্বের কোনো দেশই এখন পর্যন্ত তালেবানকে দেশটির বৈধ সরকার হিসেবে স্বীকৃতি না দেওয়ায় আফগানিস্তানের অর্থনৈতিক অবস্থা কেবলই অবনতির দিকে যাচ্ছে।
এএফপি জানিয়েছে, সংকটজনক এই পরিস্থিতিতে আফগানিস্তানের ভেতরেই অনেক জায়গায় মার্কিন ডলারে লেনদেন করে থাকেন আফগান নাগরিকরা। এছাড়া পাকিস্তান সীমান্তবর্তী আফগান ভূখণ্ডের দক্ষিণাঞ্চলের অনেক জায়গায় বিনিময়ের মাধ্যম হিসেবে পাকিস্তানি রুপিও ব্যবহার করেন অনেকে।
তবে আফগানিস্তানের অভ্যন্তরে বিদেশি যেকোনো মুদ্রায় লেনদেন বা ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে দেশটির ক্ষমতাসীন গোষ্ঠী তালেবান। মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে এই ঘোষণা দেন তালেবানের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ। এমনকি অভ্যন্তরীণ ব্যবসায় এবং এ সংক্রান্ত কাজে বিদেশী মুদ্রা ব্যবহারকারীকে শান্তির আওতায় আনা হবে বলেও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন তিনি।
জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ জানান, ‘দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও জাতীয় স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে সকল আফগান নাগরিককে লেনদেনের সকল ক্ষেত্রে আফগানি মুদ্রা ব্যবহার করতে হবে।’