টানা কয়েক দিনের ভারি বর্ষণের ফলে সৃষ্ট বন্যা-ভূমিধসে ভারত এবং নেপালে প্রায় দুইশ মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। প্রাকৃতিক এই দুর্যোগে গত কয়েক দিনে প্রতিবেশি এই দুই দেশে আরও অনেকে নিখোঁজ এবং আহত রয়েছেন। যে কারণে হতাহতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
নেপালের কর্মকর্তারা বলেছেন, গত সোমবার থেকে নেপালে মুষলধারে বৃষ্টি পর দেখা দেওয়া বন্যা এবং ভূমিধসে এখন পর্যন্ত ৯৯ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। প্রতিবেশি ভারতে চলতি সপ্তাহের ভারি বর্ষণে বন্যা-ভূমিধসের ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞে কমপক্ষে ৮৮ জন মারা গেছেন। বন্যার কারণে রাস্তাঘাট ডুবে যাওয়ার পাশাপাশি সেতু ক্ষতিগ্রস্ত এবং পানির তোড়ে বেশ কিছু বাড়িঘর ভেসে গেছে।
দেশটির পুলিশের মুখপাত্র বসন্ত বাহাদুর কুনওয়ার বলেছেন, চলতি সপ্তাহে দেশের পূর্ব এবং পশ্চিমাঞ্চলে ব্যাপক বৃষ্টিপাত হয়েছে। যারা মারা গেছেন তাদের বেশিরভাগই এ দুই অঞ্চলের।
তিনি বলেন, উদ্ধার এবং অনুসন্ধানকারী দলের সদস্যরা লোকজনকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি আহতদের হাসপাতালে পাঠিয়ে দিচ্ছে। বন্যা এবং ভূমিধসে আহত কমপক্ষে ৩৫ জনকে উদ্ধারের পর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
প্রতিবেশি দুই দেশ— নেপাল এবং ভারতে বন্যাদুর্গতদের উদ্ধার তৎপরতায় সহায়তা করছে রেড ক্রিসেন্টের উদ্ধারকারীরা। আজমত উল্লাহ বলেছেন, করোনাভাইরাস মহামারি এবং জলবায়ু বিপর্যয়ের স্যান্ডউইচে পরিণত হয়েছেন নেপাল এবং ভারতের জনগণ। যা লাখ লাখ মানুষের জীবন ও জীবিকার ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলছে।
বৃহস্পতিবার নেপালের প্রধানমন্ত্রী শের বাহাদুর দিউবা দেশটির পশ্চিমাঞ্চলের বন্যাদুর্গত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। এ সময় তিনি দুর্গতদের দ্রুত উদ্ধার, ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম দ্রুত পরিচালনায় গুরুত্ব দিতে স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন।
ভারতের বেশ কয়েকটি অঞ্চলেও চলতি সপ্তাহে উদ্বেগজনক বৃষ্টিপাত, বন্যা এবং ভূমিধস দেখা দিয়েছে। কয়েকদিনের ভারি বর্ষণ, বন্যা এবং ভূমিধসে দেশটির উত্তরাঞ্চলীয় প্রদেশ উত্তরাখণ্ডে ৪৬ জন এবং দক্ষিণাঞ্চলীয় কেরালায় ৪২ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। আগামী কয়েকদিন এ দুই রাজ্যে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে বলে পূর্বাভাষ দিয়েছে দেশটির আবহাওয়া দফতর।
হিমালয়ের উত্তরাঞ্চলীয় ভারতের রাজ্যগুলোতে ভূমিধস এবং বন্যা সাধারণ ঘটনা। বিজ্ঞানীরা বলছেন, বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির কারণে হিমবাহ গলে যাওয়ায় এ ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঘন ঘন দেখা দিচ্ছে।
গত ফেব্রুয়ারিতেও আকস্মিক বন্যায় উত্তরাখণ্ড রাজ্যে অন্তত ২০০ জনের প্রাণহানি ঘটে। ২০১৩ সালেও দেশটিতে বন্যায় হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটে।
সূত্র: এপি