প্রবাসীদের রেমিট্যান্স গত তিন মাস ধরে ধারাবাহিকভাবে কমছে। প্রত্যাশা অনুযায়ী আসছে না রফতানি আয়ও। অন্যদিকে আমদানি ব্যয় বেড়ে গেছে। ফলে বৈদেশিক মুদ্রা সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। বাড়ছে টাকার বিপরীতে ডলারের দাম।
যখন বাজারে বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ বেশি ছিল তখন ডলার কিনেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এখন সরবরাহ কমে যাওয়ায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজারের চাহিদা অনুযায়ী ডলার বিক্রি করছে। সবশেষ আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারে প্রতি ডলারের বিনিময় মূল্য দাঁড়ায় ৮৫ টাকা ৩০ পয়সা। যা এ এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ মূল্য। তবে খোলাবাজার ও নগদ মূল্যে ডলার ৮৮ থেকে ৮৯ টাকায় কেনাবেচা হচ্ছে।
ব্যাংক সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, করোনা পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ায় দেশে আমদানি চাপ বেড়েছে। ফলে এর দায় পরিশোধে বাড়তি ডলার লাগছে। এ কারণে ডলারের দর বাড়ছে। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে পর্যাপ্ত বৈদেশিক মুদ্রা মজুত রয়েছে। এখন বাজার স্থিতিশীল রাখতে ব্যাংকগুলোর চাহিদার বিপরীতে ডলার বিক্রি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
দীর্ঘদিন স্থিতিশীল থাকার পর গত মাসের শুরুতে (আগস্ট) হঠাৎ টাকার বিপরীতে বাড়তে শুরু করে ডলারের দাম। যা এখন পর্যন্ত অব্যাহত আছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২২ সেপ্টেম্বর থেকে ব্যাংকগুলো নিজেদের মধ্যে ৮৫ টাকা ৩০ পয়সা দরে ডলার লেনদেন করছে। মাসের শুরুতে গত ২ সেপ্টেম্বর এ দর ছিল ৮৫ টাকা ২০ পয়সা। আর গত মাসের শুরুতে আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারে ডলারের দাম ছিল ৮৪ টাকা ৮০ পয়সা। এ হিসাবে ৩৪ কর্মদিবসের ব্যবধানে ডলারের বিপরীতে ৫০ পয়সা দর হারিয়েছে টাকা। এর আগে ২০২০ সালের জুলাই থেকেই ৮৪ টাকা ৮০ পয়সা স্থিতিশীল ছিল ডলার।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, আগস্ট মাসে বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংকের চাহিদা অনুযায়ী ৩০ কোটি ৫০ লাখ ডলার বিক্রি করছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
এর আগে বাজার স্থিতিশীল রাখতে ডলার কেনায় রেকর্ড গড়েছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ২০২০-২১ অর্থবছরে ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে সবমিলিয়ে প্রায় ৮ বিলিয়ন (৮০০ কোটি) ডলার কিনে। এর আগে ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ৫ দশমিক ১৫ বিলিয়ন ডলার কিনেছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। যা গত অর্থবছরের আগে সর্বোচ্চ ডলার কেনার রেকর্ড। চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়েও ২০ কোটি ৫০ লাখ ডলার কেনে আর্থিক খাতের এ নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।
সকল ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, আমদানি দায় মেটাতে ব্যবসায়ীদের থেকে দেশি ও বিদেশি খাতের বেশিরভাগ ব্যাংক প্রতি ডলারে ৮৫ টাকা ৩৫ পয়সা পর্যন্ত নিচ্ছে। তবে নগদ ডলারের মূল্য বেশিরভাগ ব্যাংকে ৮৭ টাকার উপরে রয়েছে। কয়েকটি ব্যাংকে নগদ ডলারের মূল্য ৮৮ টাকা ছাড়িয়ে গেছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, মহামারির করোনার শুরুর দিকে প্রবাসী আয়ের চাঙাভাব চলতি বছরের জুন থেকে নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। সবশেষ গত আগস্ট মাসে প্রবাসীরা ১৮১ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন, দেশীয় মুদ্রায় যার পরিমাণ ১৫ হাজার ৩৮৫ কোটি টাকা (প্রতি ডলারের বিনিময়মূল্য ৮৫ টাকা ধরে)। গত বছরের আগস্টে রেমিট্যান্স এসেছিল ১৯৬ কোটি ডলার। সেই হিসাবে গত বছরের চেয়ে এবার আগস্টে রেমিট্যান্স কমেছে প্রায় ৮ শতাংশ














