মহামারি করোনা প্রাদুর্ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামীণ ও প্রান্তিক পর্যায়ের কুটির, অতিক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের উদ্যোক্তাদের মাঝে মাত্র ৪ শতাংশ সুদে ঋণ বিতরণের উদ্যোগ নিয়েছে এনআরবিসি ব্যাংক। এই উদ্যোগে গ্রাহকের চাহিদা সক্ষমতার বিবেচনায় সর্বনিম্ন ১ লাখ থেকে সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দেওয়া হবে। যেখানে নারী উদ্যোক্তাদের ঋণ দিতে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
ঋণ বিতরণের জন্য এসএমই ফাউন্ডেশনের সঙ্গে চুক্তি করেছে এনআরবিসি ব্যাংক।
এসএমই ফাউন্ডেশন কর্তৃক গঠিত ২০০ কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় এই ঋণ বিতরণ করবে এনআরবিসি ব্যাংক।
আগারগাঁও পর্যটন ভবন মিলনায়তনে এসএমই ফাউন্ডেশনের চেয়ারপার্সন অধ্যাপক ড. মো. মাসুদুর রহমানের সভাপতিত্বে চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। বিশেষ অতিথি ছিলেন শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক এবং শিল্পসচিব জাকিয়া সুলতানা। স্ব স্ব প্রতিষ্ঠানেরর পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মো. মফিজুর রহমান ও এনআরবিসি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক গোলাম আউলিয়া।

পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, এই প্রণোদনা প্যাকেজ সঠিকভাবে বিতরণনের মাধ্যমে বাস্তবায়ন হলে কোভিড-১৯ এর ক্ষতি কাটিয়ে এসএমই খাত শক্তিশালী হবে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের উন্নয়নে এ প্রতিষ্ঠানকে আরও বেশি অর্থ বরাদ্দ দেওয়াসহ অধিক পরিসরে দায়িত্ব প্রদান করা প্রয়োজন।
শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার বলেন, প্রণোদনা প্যাকেজ সুষ্ঠুভাবে বিতরণ হলে সরকারের নির্বাচনী লক্ষ্য অনুযায়ী নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টি হবে ও কর্মসংস্থান বাড়বে।
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, কোভিড-১৯ প্রেক্ষাপটে দেশের লক্ষ লক্ষ ক্ষুদ্র উদ্যোক্তার ক্ষতি কাটিয়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনীতি সচল করতেই সিএমএসএমই উদ্যোক্তাদের জন্য প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
এসএমই ফাউন্ডেশনের চেয়ারপার্সন অধ্যাপক ড. মো. মাসুদুর রহমান বলেন, গত অর্থবছরে একমাত্র শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতায় থাকা এসএমই ফাউন্ডেশন ও বিসিক সরকারের প্রণোদনা প্যাকেজের ঋণ শতভাগ বিতরণ করে সক্ষমতা প্রমাণ করেছে। সেই ধারাবাহিকতায় চলতি অর্থবছরের ২০০ কোটি টাকা ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যেই বিতরণ শেষ করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
উল্লেখ্য, সম্পাদিত চুক্তি অনুসারে মহামারি করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত যারা সরকারের প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় ঋণ পাননি, অগ্রাধিকারভুক্ত এসএমই সাব-সেক্টর এবং ক্লাস্টারের উদ্যোক্তা; নারী-উদ্যোক্তা; নতুন উদ্যোক্তা অর্থাৎ যারা এখনো ব্যাংক ঋণ পাননি; এবং পশ্চাদপদ ও উপজাতীয় অঞ্চল, শারীরিকভাবে অক্ষম এবং তৃতীয় লিঙ্গের উদ্যোক্তাগণ সহজশর্তে এই ঋণ পাবেন।


















