৯ই মার্চ ২০২০, দেশের হয়ে সব শেষ টি-টোয়েন্টি খেলেছেন ওয়ানডে অধিনায়ক তামিম ইকবাল। এরমধ্যে পেরিয়ে গেছে ৫৪১ দিন। বাংলাদেশ এই ১৭ মাসে খেলেছে ১৪ টি-টোয়েন্টি ম্যাচ। কিন্তু ইনজুরি ও ফিটনেসের কারণ দেখিয়ে খেলেননি তিনি। তবে এই ফরম্যাটে না খেললেও টেস্ট ও ওয়ানডেতে তাকে পাওয়া গেছে নিয়মিতই। চার-ছক্কার এই ফরম্যাটে দেশের হয়ে ৭৪ ম্যাচে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৭০১ রান করা এই ওপেনারের দলের বাইরে থাকা নিয়ে চলছিল নানা আলোচনা। প্রশ্ন উঠছিল আসলেই কি তিনি ক্রিকেটের এই ধুমাধার ফরমেটে খেলবেন না! সব শেষ নিউজিল্যান্ড সফর শেষ করে দেশে ফিরে এক সাক্ষাৎকারে বলেও দিয়েছিলেন কোনো এক ফরম্যাট থেকে নিয়ে নিবেন অবসর। গতকাল টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে নিজের সরে দাঁড়ানো ঘোষণা দিয়ে সেই গুঞ্জনের পালে ফের হওয়া দিয়েছেন।
তাই প্রশ্নটা উঠতে পারে- তবে কি অলিখিত অবসরে তামিম? না, নিজের ভিডিও বার্তাতে সেটি তিনি বলেননি। জানিয়েছেন খেলার মতো পরিস্থিতি থাকলে খেলবেন। সেইসঙ্গে ব্যাখ্যা দিয়েছেন কেন তিনি সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিলেন। নিজের ফেসবুক পেজে লাইভে এসে তিনি বলেন, ‘ছোট্ট একটা ঘোষণা ছিল, কিছুক্ষণ আগে আমি বোর্ড সভাপতি ও প্রধান নির্বাচককে ফোন করে বলেছি যে আমার মনে হয় না, বিশ্বকাপ দলে আমার থাকা উচিত। বিশ্বকাপের জন্য আমি ‘অ্যাভেইলেবল’ নই। এর একটা বড় কারণ, গেম টাইম। বেশ কয়েকদিন ধরে খেলছি না এই ফরম্যাটে। দ্বিতীয়ত, ইনজুরি। যদিও ইনজুরি আমার মনে হয় না অত বড় সমস্যা। কারণ আমি আশা করি যে বিশ্বকাপের আগেই ঠিক হয়ে যাবো।’
তামিমের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ না খেলার সিদ্ধান্তটা অনুমেয় ছিল না ক্রিকেট ভক্তদের কাছে। তবে তাকে দলে রাখা নিয়ে চলছিল বিস্তর আলোচনা-সমালোচনা। দীর্ঘদিন দলের বাইরে থাকার কারণে তাকে কেন রাখা হবে বিশ্বকাপ স্কোয়াডে এ নিয়ে প্রশ্ন। তবে সেই সমস্যার সমাধান খুব সহজেই করে দিলেন দেশের এই সেরা ওপেনার।
তবে এইভাবে টি-টোয়েন্টি থেকে দূরে থাকার কারণ নিয়ে গুঞ্জনটা থামানো যাবে না। ২০১৯ এর বিশ্বকাপ থেকেই শোনা যাচ্ছিল মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের সঙ্গে তামিমের দূরত্বে কথা। আর রিয়াদের নেতৃত্বে তামিম টি-টোয়েন্টি খেলবেন না সেটি তখন থেকেই ছিল আলোচনায়। শেষ পর্যন্ত কি দলের মধ্যে আন্তঃকোন্দলেই তার এমন সিদ্ধান্ত! যদিও তামিম বলেছেন এর পেছনে অন্য কোনো কারণ না খুঁজতে। তিনি বলেন, ‘আমি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি, এটিতেই অটল থাকবো। এখানে নতুন করে বলার কিছু নেই। সব কারণ বলে দিয়েছি। এখানে কোনো বিতর্ক নেই। বিতর্ক হওয়ার কিছু নেই। আমার যা মনে হচ্ছিল, সেটাই করেছি। মানুষ হিসেবে আপনারা আমাকে অনেকেই চেনেন না, কিন্তু যারা আমার কাছের, সবাই আমার ব্যাপারে একটা জিনিস জানেন যে, আমি যা-ই করি, হৃদয়ের ভেতর থেকেই করি। আমার মন এটাই বলছিল যে এটাই সঠিক সিদ্ধান্ত। দলের জন্য এটাই ভালো।’