শেলটেকের ব্র্যান্ড ভ্যালুর সুবাদে কোনো বিজ্ঞাপন ছাড়াই প্রতিষ্ঠানটি তাদের সব পণ্য বিক্রি করতে পারছে। প্রত্যন্ত ভোলা দ্বীপে কারখানা স্থাপনের কৌশল শেলটেকের জন্য দারুণ ফল বয়ে এনেছে।
শেলটেক গ্রুপের চেয়ারম্যান কুতুবউদ্দিন আহমেদ বলেন, উৎপাদন দক্ষতা যাচাই করার জন্য নতুন প্লান্টগুলোতে ইতিমধ্যে পরীক্ষামূলক উৎপাদন শুরু হয়েছে। ‘আশা করছি প্লান্টগুলো সময়মতোই বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করতে পারবে।’
কুতুবুদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘আমরা ১মি.×১মি. ফরম্যাটের সবচেয়ে বড় আকারের ফ্লোর টাইলস উৎপাদন করতে যাচ্ছি, যা বর্তমানে সম্পূর্ণ আমদানি-নির্ভর।’
তিনি বলেন, কারখানাটির স্ক্র্যাচ-প্রতিরোধী ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফ্লোর টাইলস উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে। এ টাইলস প্রধানত গার্মেন্টস এবং টেক্সটাইল শিল্পে ব্যবহৃত হয়। এখানে উৎপন্ন ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফ্লোর টাইলস তিন টন পর্যন্ত ভর বহন করতে পারবে এবং টেকসই হবে।
ভোলা সদরের প্রায় ৬০ একর জমিতে স্থাপন করা হয়েছে শেলটেক সিরামিক কারখানাগুলো। এতে বিনিয়োগ করা হয়েছে প্রায় ৬০০ কোটি টাকা। শিল্পটি প্রায় ১ হাজার মানুষের সরাসরি কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে। তাদের মধ্যে ৮০০ জনই স্থানীয়।

সিরামিক কারখানা স্থাপনের জন্য ভোলাকে বেছে নেওয়ার কারণ জানাতে গিয়ে শেলটেক গ্রুপের চেয়ারম্যান বলেন, ‘ভোলা অনুন্নত এলাকা, এবং এখানে সস্তায় পর্যাপ্ত জমিও পাওয়া যায়।’
গোটা বিশ্বেই অন্যান্য পরিবহন ব্যবস্থার তুলনায় নৌপথে পরিবহন অনেক সস্তা। আর এই সাশ্রয়ী পরিবহনের সুবিধা গ্রহণের জন্য ভোলা সবদিক থেকে আদর্শ স্থান।
তিনি আরও বলেন, ‘লক্ষ্মীপুর, যশোর ও নারায়ণগঞ্জে আমাদের তিনটি গুদাম আছে। তাই ভোলার কারখানা থেকে আমাদের তৈরি পণ্য খুব সহজেই ৬-৭ ঘণ্টার মধ্যে জলপথে এই গুদামগুলোতে পাঠানো যায়। কোনো যানজট নেই, পরিবহন খরচও কম।’
স্থানীয়দের জন্য আশীর্বাদ
শেলটেক সিরামিকসে যেসব স্থানীয় লোক চাকরি পেয়েছেন, তাদের অধিকাংশই বেকার ছিলেন।
শেলটেক সিরামিকস টাইলস কারখানা স্থাপন হওয়ার পর তাদের ভাগ্য ফিরে গেছে।
কুতুবুদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘আমাদের ধারণা ছিল এটা একটা বড় খাতে পরিণত হবে; এজন্যই আমরা এই শিল্পে পা রেখেছি।’
শেলটেক সিরামিকের প্রথম প্লান্টটি দৈনিক ১.০৭ লাখ বর্গফুট প্রিমিয়াম মানের দেওয়াল ও মেঝের টাইলস উৎপাদনের সক্ষমতা নিয়ে উৎপাদন শুরু করে।
শেলটেক গ্রুপের চেয়ারম্যান বলেন, কারখানাকে পরিবেশবান্ধব করতে তারা দুটি এফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্লান্ট (ইটিপি) স্থাপন করেছেন। এর ফলে বর্জ্যও পুনর্ব্যবহার করা যাচ্ছে।
কর্তৃপক্ষ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সম্প্রসারণ প্রকল্পের মতো প্রকল্পগুলোতে আমদানিকৃত টাইলস ব্যবহারের শর্ত আরোপ করেছে জানিয়ে কুতুবউদ্দিন বলেন, সরকারের উচিত মেগা প্রকল্পগুলোতে স্থানীয়ভাবে উৎপন্ন টাইলস ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া।
শেলটেক চেয়ারম্যান জানান, তারা সর্বাধুনিক ইউরোপীয় প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিশ্বমানের টাইলস উৎপাদন করছেন।
স্থানীয় নির্মাতাদের মোট দেশীয় চাহিদা পূরণের ক্ষমতা রয়েছে। তাই টাইল আমদানির ওপর বেশি শুল্ক আরোপের মাধ্যমে স্থানীয় শিল্পকে সুরক্ষিত করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, ‘দুর্ভাগ্যবশত সিরামিক শিল্পের জন্য কাঁচামাল আমদানির ওপর আরোপ করা মোট শুল্কের পরিমাণ উৎপন্ন পণ্য আমদানির খরচের চেয়েও বেশি।
‘হাই-ভ্যালু টাইলস শিল্পে এখন ইউরোপীয় উৎপাদকরা ছড়ি ঘোরাচ্ছে। সরকার যদি স্থানীয় টাইল উৎপাদকদের শুল্কমুক্ত সুবিধা দেয়, তাহলে এই খাত রপ্তানি আয়ের ভালো উৎসে পরিণত হতে পারে।’
শেলটেক গ্রুপের চেয়ারম্যান হতাশা প্রকাশ করে বলেন, গ্রামাঞ্চলে বিনিয়োগের জন্য পোশাক খাত যে সরকারি কর অবকাশ সুবিধা পায়, সেই সুবিধা সিরামিক শিল্প পাচ্ছে না।


















