আফগানিস্তানে সেনাবাহিনীর অভিযানে অন্তত ২৬৯ তালেবান নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছে দেশটির দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।আফগানিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি বরাত দিয়ে কাবুল থেকে ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশনের (আইআরআইবি) এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় আফগানিস্তানের লাগমান, নানগারহার, নুরিস্তান, কুনার, গজনি, পাকতিয়া, কান্দাহার, হেরাত, বাল্খ, জুযজান, হেলমান্দ, কুন্দুজ ও কাপিসা প্রদেশে তালেবানকে লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালিয়েছে আফগানিস্তান ন্যাশনাল ডিফেন্স অ্যান্ড সিকিউরিটি ফোর্স (এএনডিএসএফ)।
এসব অভিযানে ২৬২ তালেবান সদস্য নিহত ও ১৭৬ জন আহত হয়েছে। এ সময় সেনাবাহিনী তালেবানের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধারের দাবিও করেছে। রেডিও তেহরানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এই দাবি প্রত্যাখান করেছে তালেবান। তালেবানের সহিংসতা রুখতে আফগানিস্তানের ৩৪টি প্রদেশের প্রায় সবগুলোতেই রাত্রীকালীন কারফিউ জারি করেছে দেশটির সরকার। রাত ১০টা থেকে ভোর ৪টা পর্যন্ত নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে বাড়িতে থাকার নির্দেশ দিয়েছে আফগান সরকার।
তালেবানদের প্রতিশোধমূলক হামলার আশঙ্কায় দেশ ছেড়ে তুরস্ক, ইরান, পাকিস্তান সীমান্তে আশ্রয় নিচ্ছেন আফগানরা। বাইডেন প্রশাসন। এর আগে আফগানিস্তানের শতকরা ৯০ ভাগ সীমান্তের ওপর নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করার দাবি করে তালেবান। তবে ওই দাবি প্রত্যাখান করে আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।
এর আগে গত সপ্তাহে পেন্টাগনের সংবাদ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা জেনারেল মার্ক মিল্লেই বলেন, তালেবান কৌশলগতভাবে এগিয়ে আছে। কাজেই আফগানিস্তানে তালেবানের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার বিষয়টি তিনি একেবারে উড়িয়ে দিতে পারছেন না। কিন্তু এটা অপরিহার্য নয় বলেও মন্তব্য করেন এ মার্কিন জেনারেল।
দুই দশক আগে তালেবান যখন ক্ষমতায় ছিল, তখন তারা দেশটিতে ইসলামি শাসন কায়েম করে। তারা নারীদের শিক্ষাবঞ্চিত করে এবং তাদের কর্মক্ষেত্রে যাওয়া নিষিদ্ধ করে দিয়েছিল। এতে মার্কিন বাহিনী চলে যাওয়ার পর ফের তালেবান ক্ষমতায় আসা নিয়ে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
ইতোমধ্যে কয়েক হাজার আফগান, যারা মার্কিন বাহিনীর দোভাষী হিসেবে কাজ করেছেন, তারা যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পেতে আবেদন করেছেন। ভিন্ন মতাবলম্বীদের ওপর তালেবানের দমনপীড়নের আশঙ্কা থেকেই তারা আফগানিস্তান থেকে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। দেশটি থেকে মার্কিন নেতৃত্বাধীন ন্যাটো বাহিনীর ৯৫ শতাংশ প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। যা আগামী ৩১ আগস্টের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।