করোনা রোধে হাত ধোয়ার জন্য রাজধানী ঢাকাসহ বিভাগীয় শহরগুলোয় সরকারি-বেসরকারি নানা প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে বসানো হয়েছিল বেসিন। রাখা হয়েছিল পানির বন্দোবস্ত। তবে পরিচ্ছন্নতার এই ব্যবস্থা অল্প কিছু দিন পরই অচল, অকেজো হয়ে পড়ে। সব জায়গায় এ করুণদশাÑ ট্যাংক আছে পানি নেই, বেসিন আছে সাবান নেই। ছবিটি গতকাল ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বহির্বিভাগের সামনে থেকে তুলেছেন মেহরাজ
করোনা সংক্রমণ রোধে টেকসই স্বাস্থ্যাভ্যাস গড়ে তুলতে ৩২৬ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদনের জন্য আবেদন করেছে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর (ডিপিএইচই)। এর আগে ‘মানবসম্পদ উন্নয়নে গ্রামীণ পানি সরবরাহ, স্যানিটেশন এবং স্বাস্থ্যবিধি’ প্রকল্পে সাধারণ মানুষকে হাত ধোয়া শেখানোর জন্য প্রচার চালাতে ৪০ কোটি টাকা চাওয়া হয়েছিল। তবে প্রকল্পটি নিয়ে সরকার এখনই ভাবছে না বলে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানায়। এদিকে গত ২২ ডিসেম্বর একনেক সভায় ‘গ্রামীণ পানি সরবরাহ, স্যানিটেশন এবং স্বাস্থ্যবিধি’ প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৮৮২ কোটি টাকা। প্রকল্পের আওতায় ১ হাজার ৪২৫টি বেসিন সেট স্থাপন করবে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর। এগুলো স্থাপনে মোট ২৮ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয় করা হবে। এ ছাড়া সাধারণ মানুষকে হাত ধোয়া শেখানোর জন্য প্রচার চালাতে ৪০ কোটি টাকা ব্যয় হবে। তবে প্রকল্পটি এখনই একনেক সভায় উপস্থাপন করা হবে না- জানিয়েছে পরিকল্পনা কমিশন। ‘কোভিড-১৯ মোকাবিলায় হাইজিন প্রকল্প’-এর প্রস্তাব ২০২০ সালের জুলাই মাসে পরিকল্পনা কমিশনে পাঠায় ডিপিএইচই। ইতোমধ্যে প্রায় ছয় মাস হয়ে গেছে। প্রকল্পের অনেক বিষয় পরিবর্তন হয়েছে। এর মধ্যে একই ধরনের একটি প্রকল্প একনেক সভায় অনুমোদন পেয়েছে। পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সদস্য (সচিব) মো. মামুন-আল-রশীদ বলেন, প্রায় ছয় মাস আগে এ প্রকল্পের প্রস্তাবনা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর পাঠায়। বর্তমানে প্রকল্পের আদৌ প্রয়োজন আছে কিনা কিংবা পরিবর্তন হবে কিনা- এসব দেখা হবে। তবে এখনই প্রকল্পটি একনেক সভায় উঠছে না।
ডিপিএইচই সূত্র জানায়, প্রকল্পটি চলতি সময় থেকে ২০২২ সালের জুন মেয়াদে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হয়। ‘কোভিড-১৯ মোকাবিলায় হাইজিন প্রকল্প’-এর জন্য ৩২৬ কোটি ৫৯ লাখ ২০ হাজার টাকা চাওয়া হয়, যার মধ্যে ৪০ কোটি ৪৮ লাখ টাকা দেবে সরকার আর বাকি ২৮৬ কোটি ১১ লাখ টাকা ঋণ হিসেবে দেবে উন্নয়ন সহযোগীরা। প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে বিশেষত স্বাস্থ্যসেবা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোয় বিভিন্ন ধরনের হাত ধোয়ার বেসিন স্থাপনের মাধ্যমে কমিউনিটি পর্যায়ে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি ও সংক্রামক রোগের সংক্রমণ কমিয়ে আনা। স্বাস্থ্যবিধি চর্চার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে গণমাধ্যমের মাধ্যমে সামাজিক সচেতনতা তৈরি করা এ প্রকল্পের উদ্দেশ্য।
কোভিড-১৯ মহামারীর মতো ব্যাধি মোকাবিলায় প্রস্তাবিত প্রকল্পের জন্য জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় মাঠ পর্যায়ের তথ্য সংগ্রহ করে দেশের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ কমিটির কাছ থেকে প্রাপ্ত প্রতিবেদনের আলোকে প্রস্তাবিত প্রকল্পের ওপর একটি বিস্তারিত সম্ভাব্যতা সমীক্ষা করা হয়েছে বলে জানায় ডিপিএইচই।
ডিপিএইচই সূত্র জানায়, কোভিড ১৯-এর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য এর প্রতিরোধই সর্বোত্তম। এ লক্ষ্যে ডিপিএইচই জনসমাগমপূর্ণ জায়গাগুলোয় হাত ধোয়ার বেসিন স্থাপনের পাশাপাশি সচেতনতা বাড়ানোর মতো জরুরি কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। দেশে এ পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ৪০০টি হাত ধোয়ার বেসিন স্থাপন করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের ডিসি অফিস, আদালত এবং অন্যান্য জনসমাগমপূর্ণ স্থানকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে; কিন্তু চাহিদার তুলনায় তা খুবই অপর্যাপ্ত। হাত ধোয়ার প্রকল্প কেবল এই বিশেষ রোগের জন্যই মানুষকে সচেতন করবে না বরং স্বাস্থ্যবিধি অনুশীলনের প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে অভ্যস্ত করে তুলবে। সমগ্র দেশে কোভিড ১৯-এর মতো সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে বিশেষত হাত ধোয়া এবং আচরণগত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার মাধ্যমে টেকসই স্বাস্থ্যাভ্যাস গড়ে তোলার লক্ষ্যে প্রকল্পটি প্রস্তাব করা হয়েছে।



















