চীনভিত্তিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আলিবাবা গ্রুপ হোল্ডিং লিমিটেডের কাছে এমন একটি প্রযুক্তি রয়েছে, যা চেহারা শনাক্তকরণের মাধ্যমে মানুষকে, বিশেষত চীনের উইঘুর সংখ্যালঘু সদস্যদের চিহ্নিত করতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক শিল্প গবেষক আইপিভিএমের এক প্রতিবেদনে সম্প্রতি এ তথ্য প্রকাশিত হয়। পরে আলিবাবার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে এ প্রযুক্তির মাধ্যমে কোনো সংখ্যালঘু গোষ্ঠীকে চিহ্নিত করবে না তারা। খবর: বিবিসি।
বুধবার মার্কিনভিত্তিক আইপিভিএম প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, উইঘুরদের শনাক্ত করতে সক্ষম সফটওয়্যারটি আলিবাবার ওয়েবসাইটগুলোর জন্য ক্লাউড শিল্ডের বিষয়বস্তু সংযোজন পরিষেবার কাজ করে থাকে। আলিবাবা ক্লাউড শিল্ডকে এমন একটি পদ্ধতি হিসেবে বর্ণনা করেছে যা পর্নোগ্রাফি, রাজনীতি, সহিংস সন্ত্রাসবাদ, বিজ্ঞাপন এবং স্প্যামযুক্ত টেক্সট, ছবি, ভিডিও শনাক্ত করে এবং যাচাইকরণ, চিহ্নিতকরণ, কাস্টম কনফিগারেশন ও অন্যান্য সুবিধা সরবরাহ করে।
প্রযুক্তিটির একটি রেকর্ড দেখায় যে, এটি চশমা, হাসি, এ জাতীয় বিষয় যাচাইয়ের মাধ্যমে জাতিগত চিহ্নিতকরণ করে এবং বিশেষত উইঘুর কি নাÑতা নির্ণয় করতে পারে।
আইপিভিএম গবেষক চার্লস রোলেট জানিয়েছেন, যদি একজন উইঘুর ক্লাউড শিল্ডে সাইন আপ করা কোনো ওয়েবসাইটে কোনো ভিডিও সরাসরি সম্প্রচার করে, তাহলে সফটওয়্যারটি শনাক্ত করতে পারে যে ব্যবহারকারীটি উইঘুর প্রজাতির এবং ভিডিওটিকে পর্যালোচনা বা অপসারণের জন্য চিহ্নিত করে। তবে প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হওয়ার পর সফটওয্যারটিতে উইঘুরদের কথা সড়িয়ে ফেলা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে আইপিভিএম।
আলিবাবা একটি বিবৃতিতে বলেছে, আলিবাবা ক্লাউডের ফেসিয়াল রিকগনিশন সফটওয়্যার তৈরি করার উদ্দেশ্য ছিল জাতিগত পরিচয়কে ভিডিও চিত্রে উপস্থাপন করা। সফটওয়্যারটি কখনোই বৈষম্যের উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়নি। তাদের দাবি, এটি ছিল পরীক্ষামূলক প্রযুক্তি, গ্রাহকদের উদ্দেশ্যে নয়। তারা বিবৃতিতে উইঘুরদের কথা উল্লেখ করেনি। আলিবাবার এক মুখপাত্র বলেছেন, আমরা আমাদের পণ্য থেকে সব ধরনের জাতিগত পরিচয় সরিয়ে দিয়েছি।

গবেষক ক্যানালিসের ডেটা থেকে দেখা যায়, নিউইয়র্ক এবং হংকং উভয় স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত রয়েছে আলিবাবা। এটি চীনের বৃহত্তম ক্লাউড কম্পিউটিং বিক্রেতা এবং বিশ্বব্যাপী চতুর্থ। চলতি মাসের শুরুর দিকে মার্কিন সংসদ সদস্যরা উইঘুরদের নজরদারিতে ব্যবহƒত ইনটেল কর্প এবং এনভিডিয়া কর্পকে কম্পিউটার চিপ ব্যবহার করার চিঠি পাঠিয়েছে।
জিনজিয়াং অঞ্চলে ১০ লাখ মুসলিম উইঘুরকে জোরপূর্বক শ্রম শিবিরে স্থানান্তর করার জন্য চীনকে অভিযুক্ত করছে মানবাধিকার কর্মীদের দলগুলো। তবে একে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র বলে অভিযোগ বারবার অস্বীকার করেছে চীন। কাউকে জোরপূর্বক ওই কেন্দ্রে প্রবেশ করানো হয়নি বলেও দাবি করছে দেশটি।


















