এবার লভ্যাংশ ঘোষণার শীর্ষে ইস্টার্ন ব্যাংক

96

পুঁজিবাজারে ব্যাংক খাতে তালিকাভুক্ত ৩১টি ব্যাংকের মধ্যে ৩৫ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা দিয়ে প্রথম অবস্থানে রয়েছে ইস্টার্ন ব্যাংক। ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

২০২০ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে শেয়ারহোল্ডারদের জন্য এ লভ্যাংশ প্রদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ব্যাংকগুলোর পরিচালনা পর্ষদ।

বিভিন্ন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য থেকে জানা গেছে, এ পর্যন্ত যে সকল ব্যাংক লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে তাদের মধ্যে ইস্টার্ন ব্যাংকের অবস্থান সবার শীর্ষে। অথার্ৎ ঘোষিত লভ্যাংশের ক্রম অনুসারে ৩৫ শতাংশ লভ্যাংশ দিয়ে প্রথম অবস্থানে আছে ইস্টার্ন ব্যাংক। ৩০ শতাংশ লভ্যাংশ দিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ডাচ্-বাংলা ব্যাংক, আর ২৫ শতাংশ লভ্যাংশ দিয়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে উত্তরা ব্যাংক।

এরপর সিটি ব্যাংক ২২.৫০ শতাংশ লভ্যাংশ দিয়ে চতুর্থ, প্রিমিয়ার ব্যাংক ২০ শতাংশ লভ্যাংশ দিয়ে পঞ্চম, যমুনা ব্যাংক ১৭.৫০ শতাংশ লভ্যাংশ দিয়ে ষষ্ঠ, প্রাইম ব্যাংক ১৫ শতাংশ লভ্যাংশ দিয়ে সপ্তম এছাড়াও মার্কেন্টাইল ব্যাংক ও ব্র্যাক ব্যাংক ১৫ শতাংশ লভ্যাংশ দিয়ে সপ্তম অবস্থানে আছে। এদিকে ১২.৫০ শতাংশ লভ্যাংশ দিয়ে পূবালী ব্যাংক অষ্টম, আর ১২ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করে নবম অবস্থানে রয়েছে শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক। তারপর ১১.৫০ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করে দশম অবস্থানে রয়েছে ওয়ান ব্যাংক, ১০ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করে ১১তম অবস্থানে রয়েছে ব্যাংক এশিয়া, ৫ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করে ১২তম অবস্থানে রয়েছে আইএফআইসি ব্যাংক। এদিকে আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক কোনো লভ্যাংশ ঘোষণা করেনি।

ডিভিডেন্ড বিশ্লেষনে দেখা যায়, ইস্টার্ন ব্যাংকের ৩৫ শতাংশ লভাংশের মধ্যে ১৭.৫ শতাংশ নগদ ও ১৭.৫ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ। ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের ৩০ শতাংশ লভাংশের মধ্যে ১৫ শতাংশ নগদ ও ১৫ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ। উত্তরা ব্যাংকের ২৫ শতাংশ লভাংশের মধ্যে ১২.৫ শতাংশ নগদ ও ১২.৫ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ। সিটি ব্যাংকের ২২.৫০ শতাংশ লভাংশের মধ্যে ১৭.৫০ শতাংশ নগদ ও ৫ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ। প্রিমিয়ার ব্যাংকের ২০ শতাংশ লভাংশের মধ্যে ১২.৫ শতাংশ নগদ ও ৭.৫০ শতাংশ বোনাস লভ্যংশ। যমুনা ব্যাংকের ১৭.৫০ শতাংশ পুরোটাই নগদ লভ্যাংশ। প্রাইম ব্যাংকের ১৫ শতাংশ লভ্যাংশের পুরোটাই নগদ লভ্যাংশ। মার্কেন্টাইল ব্যাংকের ১৫ শতাংশ লভাংশের মধ্যে ১০ শতাংশ নগদ ও ৫ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ। ব্র্যাক ব্যাংকের ১৫ শতাংশ লভাংশের মধ্যে ১০ শতাংশ নগদ ও ৫ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ। পূবালী ব্যাংকের ১২.৫০ শতাংশ পুরোটাই নগদ লভ্যাংশ। শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের ১২ শতাংশ লভ্যাংশের মধ্যে ৭ শতাংশ নগদ ও ৫ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ। ওয়ান ব্যাংকের ১১.৫০ শতাংশ লভ্যাংশের মধ্যে ৬ শতাংশ নগদ ও ৫.৫ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ। ব্যাংক এশিয়ার ১০ শতাংশ পুরোটাই নগদ লভ্যাংশ। আইএফআইসি ব্যাংকের ৫ শতাংশ পুরোটাই বোনাস লভ্যাংশ।

উল্লেখ্য যে, ইস্টার্ন ব্যাংক ১৯৯৩ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভূক্ত হয়ে বর্তমানে ‘এ’ ক্যাটাগরিতে অবস্থান করছে। সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী ইস্টার্ন ব্যাংকের শেয়ার দর গত এক বছরে ৩০ টাকা ৯০ পয়সা থেকে ৪০ টাকা ৮০ পয়সায় ওঠানামা করে। এবং বিগত ৫ বছরে ইস্টার্ন ব্যাংক শেয়ার হোল্ডারদের যথাক্রমে ২০১৫ সালে ২০ শতাংশ নগদ ও ১৫ শতাংশ বোনাস, ২০১৬ সালে ২০ শতাংশ নগদ ও ৫ শতাংশ বোনাস, ২০১৭ সালে ২০ শতাংশ নগদ ,২০১৮ সালে ২০ শতাংশ নগদ ও ১০ শতাংশ বোনাস এবং ২০১৯ সালে ১৫ শতাংশ নগদ ডিভিডেন্ড প্রদান করে।

ডাচ্-বাংলা ব্যাংক ২০০১ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভূক্ত হয়ে বর্তমানে ‘এ’ ক্যাটাগরিতে অবস্থান করছে। সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী ডাচ বাংলা ব্যাংকের শেয়ার দর গত এক বছরে ৫৬ টাকা ৯০ পয়সা থেকে ৭১ টাকা ৯০ পয়সায় ওঠানামা করে। এবং বিগত ৫ বছরে ডাচ্-বাংলা ব্যাংক শেয়ার হোল্ডারদের যথাক্রমে ২০১৫ সালে ৪০ শতাংশ নগদ , ২০১৬ সালে ৩০ শতাংশ নগদ, ২০১৭ সালে ৩০ শতাংশ নগদ, ২০১৮ সালে ১৫০ শতাংশ বোনাস এবং ২০১৯ সালে ১৫ শতাংশ নগদ ও ১০ শতাংশ বোনাস এবং ২০২০ সালে ১৫ শতাংশ নগদ ও ১৫ শতাংশ বোনাস ডিভিডেন্ড প্রদান করে।

উত্তরা ব্যাংক ১৯৮৪ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভূক্ত হয়ে বর্তমানে ‘এ’ ক্যাটাগরিতে অবস্থান করছে। সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী উত্তরা ব্যাংকের শেয়ার দর গত এক বছরে ২৩ টাকা ৭০ পয়সা থেকে ২৬ টাকা ৯০ পয়সায় ওঠানামা করে। এবং বিগত ৫ বছরে উত্তরা ব্যাংক শেয়ার হোল্ডারদের যথাক্রমে ২০১৫ সালে ২০ শতাংশ নগদ, ২০১৬ সালে ২০ শতাংশ নগদ, ২০১৭ সালে ২০ শতাংশ নগদ, ২০১৮ সালে ২০ শতাংশ নগদ ও ২ শতাংশ বোনাস এবং ২০১৯ সালে ৭ শতাংশ নগদ ও ২৩ শতাংশ বোনাস ডিভিডেন্ড প্রদান করে।

সিটি ব্যাংক ১৯৮৬ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভূক্ত হয়ে বর্তমানে ‘এ’ ক্যাটাগরিতে অবস্থান করছে। সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী সিটি ব্যাংকের শেয়ার দর গত এক বছরে ১৬ টাকা ২০ পয়সা থেকে ৩৩ টাকা ৬০ পয়সায় ওঠানামা করে। এবং বিগত ৫ বছরে সিটি ব্যাংক শেয়ার হোল্ডারদের যথাক্রমে ২০১৫ সালে ২২ শতাংশ নগদ, ২০১৬ সালে ২৪ শতাংশ নগদ, ২০১৭ সালে ১৯ শতাংশ নগদ ও ৫ শতাংশ বোনাস, ২০১৮ সালে ৬ শতাংশ নগদ ও ৫ শতাংশ বোনাস এবং ২০১৯ সালে ১৫ শতাংশ নগদ ডিভিডেন্ড প্রদান করে।

প্রিমিয়ার ব্যাংক ২০০৭ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভূক্ত হয়ে বর্তমানে ‘এ’ ক্যাটাগরিতে অবস্থান করছে। সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী প্রিমিয়ার ব্যাংকের শেয়ার দর গত এক বছরে ৯ টাকা ৯০ পয়সা থেকে ১৪ টাকা ২০ পয়সায় ওঠানামা করে। এবং বিগত ৫ বছরে প্রিমিয়ার ব্যাংক শেয়ার হোল্ডারদের যথাক্রমে ২০১৫ সালে ১০ শতাংশ বোনাস, ২০১৬ সালে ১০ শতাংশ নগদ ও ২ শতাংশ বোনাস, ২০১৭ সালে ১৫ শতাংশ বোনাস, ২০১৮ সালে ১৫.৫ শতাংশ বোনাস এবং ২০১৯ সালে ৫ শতাংশ নগদ ও ৫ শতাংশ বোনাস ডিভিডেন্ড প্রদান করে।

এদিকে শেয়ারহোল্ডারদের জন্য লভ্যাংশ ঘোষণা করা ব্যাংকগুলোর মধ্যে সবচেয়ে কম লভ্যাংশ দিয়েছে আইএফআইসি ব্যাংক। ব্যাংকটি ৫ শতাংশ লভ্যাংশ দিয়ে সর্ব নিম্ন অবস্থানে রয়েছে।আর লোকসানের কারণে শেয়ারহোল্ডারদের কোনো লভ্যাংশ