অবশেষে দশক সেরার বিশেষ ক্যাপ পেলেন সাকিব

25

জুয়াড়িদের কাছ থেকে ম্যাচ পাতানোর প্রস্তাব পেয়েও আইসিসির দুর্নীতিবিরোধী ইউনিটকে না জানানোয় এক বছরের নিষেধাজ্ঞা নেমে আসে বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানের ওপর। আইসিসির দুর্নীতিবিরোধী ইউনিটের কাছে দায় স্বীকার করে সাকিব এ সাজা মেনেও নেন। এক বছরের নিষেধাজ্ঞা শেষে ২০২০ সালের ২৯ অক্টোবর এই খড়গ থেকে মুক্ত হন ক্রিকেটের পোস্টারবয় সাকিব। তবে তার আগে তা চোখ ধাঁধাঁনো পারফরমেন্স দিয়ে জায়গা করে নিয়েছেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) দশক সেরা একাদশে। ২৭ ডিসেম্বর গত দশকের সেরা ওয়ানডে একাদশ নির্বাচন করেছিল ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। সেখানে একমাত্র বাংলাদেশি হিসেবে জায়গা পেয়েছিলেন বিশ্বসেরা এই অলরাউন্ডার। ২০১১ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০২০ সাল পর্যন্ত পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে নির্বাচিত হয়েছে এই একাদশ। এই সময়ে ১০৪ ম্যাচে ৪০.৫৬ গড়ে ৩৪৮৯ রান করেন সাকিব। বল হাতে নেন ১৩১ উইকেট।

একাদশে নির্বাচিত প্রতিটি ক্রিকেটারকে আইসিসি স্মারক হিসেবে অবশেষে বিশেষ ক্যাপটি পাঠিয়েছে। নীলরঙা টেস্টর আদলে তৈরী ক্যাপটিতে লেখা, ‘আইসিসি ওডিআই টিম অব দ্য ডেকেড ২০২০’। অন্যান্য খেলোয়াড়রা আগে পেলেও গতকাল ক্যাপটি পান সাকিব। নিজের ইনস্টাগ্রাম ও ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ঐ ক্যাপ মাথায় দিয়ে একটি ছবি পোস্ট করেন সাকিব, সেখানে লেখেন, ‘অবশেষে ক্যাপটি পেলাম’।

অবিশ্বাস্য এক বিশ্বকাপ কাটানোর পর থেকে সাকিব আল হাসানের খেলা হয়নি আন্তর্জাতিক ম্যাচ। নির্বাসনের পর আবারো বিহঙ্গের মতো উড়ন্ত সাকিব। ফিরেছেন মাঠে। খেলেছেন ঘরোয়া ক্রিকেট লিগে। বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপে জেমকন খুলনার হয়ে খেলেন তিনি। ব্যক্তিগত কারণে ফাইনালে না খেলতে পারলেও শিরোপা ঘরে তুলেছে তার দল। তবে ব্যক্তিগত পারফরমেন্সে পুরনো সাকিবকে দেখা যায়নি। ৯ ম্যাচ খেলে কেবল ১১০ রান করতে পারেন ১২.২২ গড়ে। বল হাতে উইকেট ছিল ৬টি।

এবার সুযোগ আন্তর্জাতিক ম্যাচে নিজেকে প্রমাণের। আসন্ন ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজ দিয়ে আন্তর্জাতিক ম্যাচে আবারও দেখা যাবে এই অলরাউন্ডারকে। সব মিলিয়ে ১৫ মাস পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরবেন বাংলাদেশের সর্বকালের অন্যতম সেরা এই অলরাউন্ডার। সিরিজকে সামনে রেখে কয়েক দিন ধরেই করছেন নিয়মিত অনুশীলন। প্রথম প্রস্তুতি ম্যাচে মেলে ধরতে পারেননি। কিন্তু শেষ প্রস্তুতি ম্যাচে নিজের ব্যাটে পেয়েছেন রান। ব্যাট হাতে করেছেন ৫২ রান।

তবে আসল মঞ্চে ঠিকই জ্বলে উঠবেন লড়াকু সাকিব, এমনটাই বিশ্বাস প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদিন নান্নুর। দেশসেরা অলরাউন্ডারের কাছে প্রত্যাশাও খুব ভালো পারফরম্যান্স। ঘরোয়া ক্রিকেটেই নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে যে সেটা আরও কঠিন হবে, জানেন সাকিব। কঠিন বাস্তবতা মেনেই নিজের সেরা ফর্মে ফেরার ব্যাপারে আশাবাদী তিনি। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সাকিব ফেরায় দল আরও শক্তিশালী হয়েছে বলে মনে করেন মিনহাজুল, ‘অবশ্যই নাম্বার ওয়ান অলরাউন্ডার দলের সাথে আছে। এই অভিজ্ঞতা সবার সাথে ভাগাভাগি করতে পারবে এবং দলের জন্য এটা একটা বুস্ট আপ। আমরা মনে করি, ও নিজেও একদম রিফ্রেশ হয়ে শুরু করছে। ওর কাছে আমরা অনেক অনেক বেটার পারফরম্যান্স আশা করি।’

তার ফেরার মঞ্চ প্রস্তুত, আগামী বুধবার প্রিয় মিরপুরে। এখন শুধু অপেক্ষা আন্তর্জাতিক ম্যাচে পুরনো সাকিবকে দেখার। অপেক্ষা সমর্থকদের প্রত্যাশা পূরণের। সাকিব কি পারবেন এই প্রত্যাশা পূরণ করতে? ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ শুরু হবে ২০ জানুয়ারি থেকে। এরপর ২২ ও ২৫ জানুয়ারি হবে দ্বিতীয় ও শেষ ওয়ানডে। সেখানেই তা পরিস্কার হয়ে যাবে।